উদীয়মান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি অবদান রাখবে

প্রকাশঃ ০৫:১৯ মিঃ, মার্চ ১, ২০১৮
Card image cap

ভিসিপিয়াব–টাই ঢাকা আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তির বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নাজনিন নাহার :

“প্রতিনিয়ত নতুন উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা তৈরী হচ্ছে, সেই সাথে সামগ্রিক প্রযুক্তি বাজার প্রভাবিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, মেশিন লার্নিংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কারন হলো এসব প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে প্রয়োগ। বাংলাদেশ এই বিশাল বিশ্ব বাজারের একটি অংশ হতে পারে এবং এই অনিবার্য প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত।” শনিবার বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮ এ “অ্যাডাপটিং ইমার্জিং টেকনোলজিস ফর এক্সপোনেনশিয়াল ইকোনমিক গ্রোথ” শিরোনামের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এন্ড প্রাইভেট ইকুইটি  এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব) এবং টাই ঢাকা এই গোলটেবিল বৈঠক এর আয়োজন করে। সেশনটিতে মিডিয়া পার্টনারের ভুমিকায় ছিল দৈনিক বণিক বার্তা। মাল্টি-স্টেকহোল্ডারের এই গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভিসিপিয়াব এর চেয়ারম্যান ও টাই ঢাকার সভাপতি শামীম আহসান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ভবিষ্যত এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইজেনারেশন গ্রুপ এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম ও ভিসিপিয়াব এর মহাসচিব শওকত হোসেন । এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন; সভাপতি, এফবিসিসিআই; এস কে সুর চৌধুরী, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং হোসেন খালেদ, বাবস্থাপনা পরিচালক, আনোয়ার গ্রুপ । এছাড়াও রাশাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব, আইসিটি বিভাগ; সায়েম আহমেদ, চেয়ারম্যান, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড; সবুর খান, চেয়ারম্যান, ড্যাফোডিল গ্রুপ, তপন কান্তি সরকার, প্রেসিডেন্ট, সিটিও ফোরাম এবং অন্যান্য সেক্টর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহন করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, “বিদেশী বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান বাধা হচ্ছে রেডিমেড ডাটার অনুপস্থিতি। আমাদেরকে এই ঘাটতি পূরণ করতে এবং উদ্ভাবনি প্রযুক্তি চর্চায় গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষন কেন্দ্র দরকার।” 

ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান ও টাই ঢাকা সভাপতি শামীম আহসান বলেন, “মাইক্রোসফ্ট এবং আইডিসি পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে এশিয়ার জিডিপির ৬০% অবদান রাখবে ডিজিটাল রূপান্তর । বাংলাদেশের এই উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে।”

এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), বলেন, "জাতীয় পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বেসরকারি খাত এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তির ব্যবহারে কিভাবে এই দুর্বলতাগুলো প্রতিরোধ করা যায় তা বের করতে হবে। শাসনকার্য, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকা উচিত।"

আনোয়ার গ্রুপ এর বাবস্থাপনা পরিচালক হোসেন খালেদ বলেন, "টেকসই মুনাফা অর্জনের জন্য স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা উচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো বাংলাদেশে বর্তমান প্রযুক্তিগুলোর বেশিরভাগেরই ব্যবহার নেই যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে প্রচলিত।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর উপদেষ্টা জনাব এস কে সুর চৌধুরী বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক ও সামাজিক  অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা আনায় আমাদের জন্য অনেক বড় গেম-চেঞ্জার হতে পারে।”

ইজেনারেশন গ্রুপ এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক বাবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষন, ব্যাংকিং ও বিমা, শক্তির দক্ষ ব্যবহার, বিচার ব্যবস্থা, কৃষি খাতে ব্লকচেইন, আইওটি এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার দেশের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্নিত করতে পারে।

জনাব শওকত হোসেন বলেন, উদ্ভাবনীমূলক প্রযুক্তি এবং নতুন ধারনা নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।   

ভিসিপিয়াব স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইকুইটি ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই বিনিয়োগের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে। অন্যদিকে টাই ঢাকা একটি অলাভজনক সংগঠন, যারা উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ, নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট আয়োজন ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মেন্টরিং সহায়তা প্রদান করে থাকে। ১৯৯২ সালে সিলিকন ভ্যালিতে দ্য ইন্দাস এন্ট্রেপ্রেনিউরস (টাই) প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ১৩ হাজার সদস্য, ১৮টি দেশে ৬১টি চ্যাপ্টারে ২ হাজার ৫০০ এর অধিক চার্টার সদস্য রয়েছে।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১৪৮ বার


মুখোমুখি

Card image cap
‘বাংলাদেশকেই হিটাচি পণ্যের বাজার হিসেবে অধিক সম্ভাবনাময় দেশ বলে মনে হয়’ - চেন টেক ব্যঙ্ক

হিটাচি হোম ইলেকট্রনিক্স এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক প্রকৃতঅর্থে একজন বয়োজষ্ঠ্য, কিন্তু তার জ্ঞানের পরিধি এবং অক্লান্ত পরিশ্রম তার বয়সকেও হার মানিয়ে দেয়। আর সে কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন এক অদম্য যুবকের সমতুল্য। তার আধুনিক ব্যবসায়িক চিন্তাধারা এশিয় অঞ্চলে হিটাচি পণ্য ও সেবার  বাজারের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিটাচি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ইউনিক বিজনেস সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাসিক টেকওয়ার্ল্ড পত্রিকার প্রতিনিধির জনাব চেন টেক ব্যঙ্ক এর সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ হয়, যার উল্লেখযোগ্য অংশটুকু এখানে তুলে ধরা হলোঃ

প্রশ্নঃ সাধারণ