ভাঁজহীন ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংয়ের প্রযুক্তি নিতে পারে অ্যাপল

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৯

ভাঁজহীন ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংয়ের প্রযুক্তি নিতে পারে অ্যাপল
ছবি : সংগৃহীত

ফোল্ডেবল স্মার্টফোন এখন আর নতুন কিছু নয়। কিন্তু পর্দার মাঝখানের ভাঁজ এখনো ব্যবহারকারীদের বড় অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আনতে কাজ করছে। এবার সেই আইফোন ফোল্ডে সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান আসতে পারে। আর এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে স্যামসাংয়ের নতুন ডিসপ্লে প্রযুক্তি।

দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অনুযায়ী, অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন চলতি বছরেই বাজারে আসতে পারে। এই ফোনে ভাঁজহীন বা প্রায় অদৃশ্য ভাঁজযুক্ত ডিসপ্লে ব্যবহারের কথা শোনা যাচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বাস্তবে এমন প্রযুক্তি দেখাতে পারেনি। তবে সিইএস ২০২৬ স্যামসাং এমন একটি ফোল্ডেবল ডিসপ্লে প্রদর্শন করেছে, যেখানে চোখে পড়ার মতো কোনো ভাঁজ নেই।

এই ডিসপ্লেতে আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরাও সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফোল্ডেবল ফোনের জন্য বড় অগ্রগতি। পরিচিত প্রযুক্তি বিশ্লেষক আইসইউনিভার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, স্যামসাং তাদের গ্যালাক্সি ওয়াইড ফোল্ড ফোনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপলেরও।

নতুন ভাঁজহীন ফোল্ডেবল স্ক্রিনটি গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সেভেনের পাশে প্রদর্শন করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে পার্থক্য বোঝা যায়। যদিও অ্যাপল বা স্যামসাং কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ফোল্ডে থাকতে পারে ৫.৫ ইঞ্চির একটি বাইরের ডিসপ্লে এবং ৭.৮ ইঞ্চির একটি ভেতরের স্ক্রিন। ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরের ডিসপ্লে প্রযুক্তি সরবরাহ করবে স্যামসাং। তবে হিঞ্জ, লেমিনেশন এবং প্যানেল কাঠামোর নকশা করবে অ্যাপল নিজেই। ফোনকে আরও টেকসই করতে হিঞ্জে লিকুইড মেটাল উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে।

ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি বিশ্লেষক মার্ক গারম্যান এর আগে জানিয়েছেন, আইফোন ফোল্ডে মোট চারটি ক্যামেরা থাকতে পারে। পেছনে থাকবে দুইটি ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ভেতরের ও বাইরের স্ক্রিনে একটি করে সেলফি ক্যামেরা থাকতে পারে। নিরাপত্তার জন্য ফেস আইডির বদলে পাওয়ার বাটনে যুক্ত টাচ আইডি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দামের দিক থেকে ফোনটি বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ফোল্ডের মূল্য হতে পারে প্রায় ২ হাজার ৪শ’ ডলার। যদি এটি সত্যি হয়, তবে স্যামসাং, ভিভো, অপ্পো কিংবা মোটোরোলার ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় এটি অনেক বেশি দামি হবে।

সব মিলিয়ে, ভাঁজহীন ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন