সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি চলতি বছরে আয় করেছে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি টাকা

প্রকাশঃ ১১:৪৪ মিঃ, ডিসেম্বর ৩, ২০২২
Card image cap

২০২১- ২২ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড   ৪শত ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আয় করেছে। এতে কোম্পানীটির গত অর্থবছরে করপরবর্তী নীট মোনাফা হয়েছে ২শত ৫০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে  ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৫৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির  ২০১৭- ১৮ অর্থবছরে  অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে রাজস্ব আয় ছিল  ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

২০২১- ২২ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড   ৪শত ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আয় করেছে। এতে কোম্পানীটির গত অর্থবছরে করপরবর্তী নীট মোনাফা হয়েছে ২শত ৫০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে  ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৫৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির  ২০১৭- ১৮ অর্থবছরে  অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে রাজস্ব আয় ছিল  ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কে এই তথ্য অবহিত করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আজম আলী।

এ সময় বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমান, বিটিআরসি‘র ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন  আহমেদ এবং টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমানসহ ডাক ও টেলিযোাগযোগ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আজম আলী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগাযোগ মন্ত্রী সাবমেরিন ক্যাবলকে  দেশের অত্যন্ত অপরিহার্য টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো বলে উল্লেখ করেন। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিকে একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর  মন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন।

সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউদথের দাম ছিল ২৭হাজার টাকা। আমারা জনগণের নিকট ইন্টারনেটের দাম সাশ্রয়ী করতে তা বর্তমানে মাত্র ২শত ৪০ টাকায় নামিয়ে এনেছি। 

বর্তমানে দেশে ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ৩৮৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এককভাবেই ২৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউদথ সরবরাহ করছে। অবশিষ্ট ব্যান্ডউদথ সরবরাহ করছে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল কোম্পানীসমূহ (আইটিসি)। 

বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্তি ডিজিটাল প্রযুক্তি দুনিয়ায় বাংলাদেশের আরো একটি ঐতিহাসিক অর্জন উল্লেখ করেন তিনি।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু এবং তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সফলতা তুলে ধরে মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০১৯ সাল থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। 

জানান, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে ৬০০০ জিবিপিএস-এরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পরও হাতে যথেষ্ট পরিমান ব‌্যান্ডউদথ আছে ও থাকবে। 

মন্ত্রী বলেন, দেশে নেটওয়ার্কের বর্ধিত চাহিদা মিটিয়ে  ফ্রান্স, সৌদি আরব ও ভারতের ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ রফতানি করা হচ্ছে। ভুটান ও নেপাল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ব্যান্ডউদথ রপ্তানি করার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্ত্রী জানান। 

তৃতীয় সাবমেরিন সংযোগ সম্পন্ন হলে  ২০২৫ সালে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১৩২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সংযুক্ত হবে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৫৭ বার