অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম কেন এত জনপ্রিয়?

প্রকাশঃ ০১:৩০ মিঃ, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Card image cap

বর্তমান বিশ্বের স্মার্ট ফোনের বাজারে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের ভিতর। অন্য যে কোন অপারেটিং সিস্টেম কে পিছনে ফেলে রাজত্ব করছে অ্যান্ড্রয়েড।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন এই বিতর্ক বহু পুরোনো। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের দাবি গেম খেলার জন্য অ্যান্ড্রয়েডের জুড়ি মেলা ভার। একই কথা বলেন আইওএস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা। বর্তমান বিশ্বের স্মার্ট ফোনের বাজারে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের ভিতর। কিন্তু অন্য যে কোন অপারেটিং সিস্টেম কে পিছনে ফেলে রাজত্ব করছে অ্যান্ড্রয়েড।

অ্যান্ড্রয়েড এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এখনো এই অপারেটিং সিস্টেমকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছে।

১. সাশ্রয়ী মূল্য

আইফোনের সঙ্গে তুলনা করলে অ্যান্ড্রয়েড সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর দাম। কারণ পৃথিবীতে বহু অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস প্রস্তুতকারক রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন দামের স্মার্ট ফোন বাজারে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। শুধুমাত্র সবচেয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ব্যয়বহুল অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোই অ্যাপলের পণ্যের মূল্যমানের সমপর্যায়ে পৌঁছায়।

যে কোন অবস্থার মানুষের জন্য তার সামর্থ্যের ভিতর অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কেনা সম্ভব। কিন্তু আই ফোন শুধুমাত্র একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষের পক্ষেই কেনা সম্ভব। স্যামসাং-এর মতো কিছু ব্র্যান্ডের অবশ্যই আইওএস এর তুলনায় দামি মডেল রয়েছে। তবে তাদের এমন মডেলও রয়েছে যা বাজেটের ভিতর কেনা সম্ভব।

২. অ্যান্ড্রয়েড হার্ডওয়্যারে পছন্দের সুযোগ বেশি

অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিভিন্ন আকার, ফর্ম, বৈশিষ্ট্য সেট এবং বিভিন্ন মূল্যের আছে। প্রতি বছর নতুন নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে ছাড়া হয়। আপনি কতটা খরচ করতে পারবেন সেটা কোন বিষয় নয়, বাজেটের সাথে মানানসই এমন একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস পাওয়া কঠিন কিছু নয়।

অন্যদিকে অ্যাপল বছরে মাত্র ৪ টি ডিভাইস বাজারে আনে। তাও তার মূল্য থাকে জনসাধারণের নাগালের বাইরে।

৩. প্রসারণযোগ্য মেমোরি

বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Expandable বা প্রসারণযোগ্য মেমরি থাকে। এর মানে আপনি আপনার ফোনের পাশে একটি অতিরিক্ত স্লট খুলতে পারেন এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড লাগাতে পারেন যা ফোনে আরও মেমরি যোগ করে।

অ্যান্ড্রয়েডে এটি একটি বিশাল সুবিধা। অ্যাপল এবং অন্যান্য ফোন নির্মাতারা স্মার্টফোন কেনার সময় স্টোরেজ দ্বিগুণ বা চারগুণ করার জন্য অতিরিক্ত দাম নেয়।

৪.ইউএসবি টাইপ সি

অ্যান্ড্রয়েড ইউএসবি-সি স্ট্যান্ডার্ডে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা আরো উন্নত এবং অনেক বেশি শক্তিশালী। ইউএসবি-সি এখন মাইক্রোসফ্ট, লেনোভো, ডেল এবং এমনকি অ্যাপলের ল্যাপটপ সহ প্রায় প্রতিটি কম্পিউটার দ্বারা ব্যবহৃত হয়। USB-C রয়েছে সিঙ্গেল-পোর্ট। এটি একটি দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি।

৫. হেডফোন জ্যাক

আইফোন ব্যবহারকারীরা যদি কখনো আইফোনের হেডফোন নিতে ভুলে যান তাহলে কতটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সেটা তারাই জানেন। আইফোনে কোন স্ট্যান্ডার্ড হেড ফোন ব্যবহার করা যায় না শুধুমাত্র হেডফোন জ্যাক না থাকায়। 

এখনো অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আসে যাতে হেড ফোন জ্যাক থাকে।

৬. আই টিউনের কোন প্রয়োজন নাই

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের আইটিউনস দরকার নেই; গান শোনা এবং সাধারণভাবে কেনাকাটার জন্য আরও অনেক অপশন দেওয়া হয়। আরও অনেক নতুন অপশন অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হচ্ছে; শুধু গান শোনা নয়, সিনেমা, টিভি শো, গেমস এবং আরও অনেক কিছুর জন্য।

৭. মাল্টিটাস্কিং

অ্যান্ড্রয়েডে একাধিক কাজ করার পদ্ধতিতে গুগল বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করেছে। অ্যান্ড্রয়েড এ এখন একইসাথে দুটি অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। একটি স্ক্রিন কে দুইভাগে বিভক্ত করে ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি ইউটিউব ভিডিও দেখছেন এবং একই সময়ে আপনার হোয়াটস অ্যাপ বার্তাগুলির উত্তর দিতে পারবেন ৷

৮. Widgets

আইওএস-এর তুলনায় অ্যান্ড্রয়েডের একটি বিশাল সুবিধা হলো এর উইজেট। অ্যান্ড্রয়েড সব ধরণের উইজেট অফার করে যা আপনি আপনার হোম স্ক্রিনে রাখতে পারেন। যেমন ডার্ক স্কাই অ্যাপ, আবহাওয়া, ঘড়ি, অ্যালার্ম, ফ্ল্যাশলাইট, ইমেল, কল এবং আরও অনেক কিছু দেখায় যা আপনি আপনার হোম স্ক্রিনে আপনার ইচ্ছামত সাজাতে পারেন।

৯. ব্যাক বাটন

অ্যান্ড্রয়েডের ব্যাক বোতাম একটি অ্যাপ্লিকেশন থেকে অন্য অ্যাপ্লিকেশনে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে দেয়। আপনি যদি ফেসবুক এ একটি লিঙ্কে এ ক্লিক করেন এবং ক্রোম ব্রাউজারে স্থানান্তরিত হন, আপনি ব্যাক বোতামে চাপ দিলে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে ফিরে যেতে পারেন। 

কিন্তু এটি আইফোনে সম্ভব নয় কারণ কোনও ব্যাক বোতাম নেই।

১০. ফ্রি অ্যাপস এবং গেমস

গুগল প্লে স্টোরে প্রচুর অ্যাপ এবং গেম বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। গুগল প্লে স্টোরের বাইরে গুগল অ্যাপ স্টোর থেকেও যে কোন অ্যাপ এবং গেম ইনস্টল করা যায়। এমনকি গুগল যদি অনুমোদন নাও দেয় তবু যে কোন জায়গা থেকে অ্যাপ ইন্সটল করা সম্ভব। অ্যাপ ইন্সটলের ব্যাপারে গুগল তুলনামূলক কর রক্ষণশীল।

আইওএস এ, আপনি শুধুমাত্র অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপল যদি কোনও অ্যাপ অনুমোদন করতে না চায় বা তারা অ্যাপ স্টোর থেকে এটি সরিয়ে ফেলে, তাহলে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।

অন্য যে কোন অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় অ্যান্ড্রয়েড অপশন অনেক বেশি। ব্যবহার খুব সহজ, সহলভ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাওয়ার কারণে অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তাও বিশ্বব্যাপী অনেক বেশি।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৬৮ বার