দেশেই তৈরি হচ্ছে শাওমি স্মার্টফোনের পিসিবিএ

প্রকাশ: ০২:১৩ মিঃ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৩
Card image cap

শীর্ষ স্মার্টফোন প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড এসেম্বলি (পিসিবিএ)  উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের 'স্মার্ট বাংলাদেশ' উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে শাওমি।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি

শীর্ষ স্মার্টফোন প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড এসেম্বলি (পিসিবিএ)  উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের 'স্মার্ট বাংলাদেশ' উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে শাওমি।

কোম্পানিটি সম্প্রতি তার গাজীপুর কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ দিয়ে সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি) প্লান্ট স্থাপন করেছে এবং এটি শতভাগ বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে। রেডমি ১০সি হল শাওমির উৎপাদিত প্রথম স্মার্টফোন যা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পিসিবিএ দ্বারা তৈরি।

শাওমি, ডিবিজি টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও পিসিবিএ  তৈরি করছে। ডিবিজি একটি গ্লোবাল ইএমএস কোম্পানি, তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস রয়েছে বিশ্বব্যাপী (চীন, ভিয়েতনাম ও ভারত প্রভৃতি)। বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য কিছু ব্র্যান্ড ও কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্য তাদের কারখানায় তৈরি হয়। 

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে পিসিবিএ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী কাজ করার প্রতিশ্রুতি শাওমি দিচ্ছে, সেই সঙ্গে দেশে আরও টেক-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও আমরা অবদান রাখতে পারব। রেডমি ১০সি হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি পিসিবিএ দিয়ে শাওমির উৎপাদিত প্রথম স্মার্টফোন, যেটি দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। শীঘ্রই দেশে উৎপাদিত সকল শাওমি স্মার্টফোনে স্থানীয়ভাবে তৈরি পিসিবিএ ব্যবহার করে বাজারজাত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এটি বাংলাদেশের টেক-ইন্ডাস্ট্রির অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।’

পিসিবিএ হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তি পণ্যের একটি প্রধান উপকরণ যেটি বিভিন্ন চিপ এবং বৈদ্যুতিক সার্কিটের সাথে সংযুক্ত থেকে স্মার্টফোনের সকল ফাংশনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

শাওমির স্মার্টফোন কারখানাটি এসএমটি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ সারফেস মাউন্ট ডিভাইস (এসএমডি) উপকরণ প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড- এ মাউন্ট করে সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী স্মার্টফোনের পিসিবিএ এবং সাব-পিসিবিএ তে রূপান্তর করতে পারে। এ কারখানাটিতে দৈনিক ৬,০০০ পিসিবিএ উত্পাদন করার সক্ষমতা রয়েছে। পিসিবিএ উৎপাদনের ফলে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের পরিমান প্রায় ১০% বৃদ্ধি পাবে।  

২০২১ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশে স্মার্টফোন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত শাওমি স্মার্টফোনের যাত্রা শুরু হয়। এই বিশাল উদ্যোগের অর্থায়ন করা হয় সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে।

দেশে শাওমির মোট স্মার্টফোন চাহিদার প্রায় ৯৫% স্থানীয় কারখানায় উৎপাদিত হচ্ছে । এখানে এন্ট্রি ও মিড রেঞ্জের সব ফোন, যেমন রেডমি ১০এ, রেডমি ১০সি এবং রেডমি নোট ১১ দেশেই উৎপাদিত হয়।

শাওমি সম্পর্কে 

শাওমি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এবং ২০১৮ সালের ৯ জুলাই (১৮১০.এইচকে) হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। শাওমি একটি কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স এবং স্মার্টফোনসহ স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি; যার মূল হলো স্মার্ট হার্ডওয়্যার এবং ইন্টারনেট অব থিংকস বা আইওটি প্লাটফর্ম। 

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, 'ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং তাদের হৃদয়ে সর্বোত্তম কোম্পানি' হিসেবে জায়গা করে নেওয়া; শাওমির ক্রমাগত উদ্ভাবন, ব্যবহারকারীদের উচ্চ অভিজ্ঞতা এবং পরিচালন দক্ষতা। কোম্পানিটি সম্প্রতি বিশ্বের সেরা সব উদ্ভাবনী পণ্য এনেছে, যা ‘অনেস্ট প্রাইস’ বা সাশ্রয়ী মূল্যে জীবনকে আরও সহজ করে তোলে। 

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন কোম্পানি শাওমি। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠা করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কনজ্যুমার এআইওটি প্লাটফর্ম। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটিতে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ছাড়াই ৮৭৮ মিলিয়নের বেশি ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে শাওমির পণ্যগুলো ব্যবহার হচ্ছে। ২০২২ সালের আগস্টে কোম্পানিটি ফরচুন গ্লোবালের সেরা ৫০০ তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো স্থান করে নিয়েছে, সেই তালিকায় শাওমির অবস্থান ২৬৬তম। যা গত বছরের তুলনায় ৭২ ধাপ ওপরে। 

শাওমি হ্যাং সেন সূচক, হ্যাং সেন চীন এন্টারপ্রাইজ সূচক, হ্যাং সেন টেক সূচক এবং হ্যাং সেন চীন সূচকে ৫০তম।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ৮৮ বার