চিলড্রেনস রোবো ম্যাথ ফেস্টিভ্যাল

প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৩, ১১:৪৮
Card image cap

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন রোবটিক্স কন্টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সিমুলেশনভিত্তিক গেমিং কন্টেস্ট ভার্চুয়াল রোবটিক্স কন্টেস্ট, জেআরসি বোর্ড দিয়ে প্রস্তুতকৃত রেসিং কার নিয়ে রোবরেস প্রতিযোগিতা, লাইন ফলোয়ার রোবট কন্টেস্টে অংশ নেয়। বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট, মেডেল এবং পুরস্কার তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি

শিশু-কিশোরদের গণিত, রোবটিক্স, আইওটি এবং স্টেম শিক্ষায় উৎসাহী করে তুলতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো তিনদিনব্যাপী ‘চিলড্রেনস রোবো ম্যাথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৩’। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) যৌথ  উদ্যোগে ধানমণ্ডির গ্রীন সিটি সেন্টারে এ ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়।

অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করতে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ সময় তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে এমন আয়োজনের গুরুত্ব সম্পর্কেও কথা বলেন।

তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিনে অনলাইনে ইলেকট্রনিক্স, প্রোগ্রামিং এবং আরডুইনোর উপর ভিত্তি করে রোবটিক কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনেই এ কুইজে অংশ নেয়। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং এ হাতেখড়ি শিরোনামে প্রোগ্রামিং কর্মশালার আয়োজন করা হয়। 

গণিতকে জনপ্রিয় করতে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বাংলার ম্যাথের আয়োজনে শিশুদের জন্য ছিল গণিতের ওয়ার্কশপে ম্যাথ টিজার। এখানে মজার কিছু খেলার মাধ্যমে গণিত শেখানো হয়। সেই সাথে ছিল পুরস্কার। দিনশেষে প্রয়াত জামিলুর রেজা চৌধুরীর নামের সংক্ষিপ্ত রূপে নাম দেওয়া বাংলাদেশে ডেভেলপ করা জেআরসি বোর্ড দিয়ে এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করার জন্য রোবটিক্স ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। এই ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদেরকে হাতেকলমে বিভিন্ন প্রজেক্টও করানো হয়।  

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন রোবটিক্স কন্টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সিমুলেশনভিত্তিক গেমিং কন্টেস্ট ভার্চুয়াল রোবটিক্স কন্টেস্ট, জেআরসি বোর্ড দিয়ে প্রস্তুতকৃত রেসিং কার নিয়ে রোবরেস প্রতিযোগিতা, লাইন ফলোয়ার রোবট কন্টেস্টে অংশ নেয়। বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট, মেডেল এবং পুরস্কার তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাসফিন রোহানি এ উৎসবে এসে জীবনের প্রথমবার জেআরসি বোর্ড ব্যবহার করে এলইডি লাইট জ্বালায়। বিভিন্ন কর্মশালা বিশেষ করে ম্যাথ কর্মশালা নিয়ে সে জানায়, সুডোকু সমাধানের মাধ্যমে অঙ্কের মত কঠিন বিষয়কেও এত সহজে উপস্থাপন করা যায়, এটা তার ধারণাই ছিল না। তাছাড়া রোবটিক্স নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণাও সে পেয়েছে এ উৎসব থেকে। 

কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমলুক ছাবির আহমদ, বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানসহ আরো অনেকেই এ উৎসবের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন।   

উল্লেখ্য, এ উৎসবের সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি, বাংলার ম্যাথ, জেআরসি বোর্ড, ভার্চুয়াল রোবটিক্স টুলকিটস বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ, স্ক্র্যাচ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ফ্লাইং ল্যাবস।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ১৫ বার

সম্পর্কিত পোস্ট