সেরা সাত উদ্ভাবন পেল পৌনে তিন কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৫ মে, ২০২৩, ০১:৪০
Card image cap
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল মাতৃত্ব অ্যাপের জন্য খালেদ আশরাফ-কে ৯০ লাখ টাকা, মা ও নবজাতকের জন্য প্রযুক্তি সেবা দিয়ে মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৬০ লাখ টাকা। এছাড়াও ডায়নামিক লেটার বিল্ডারের জন্য উদ্ভাবক হাসিব উদ্দিন পেয়েছেন ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি

তিন শতাধিক প্রস্তাবনা, চার ধাপে প্রতিযোগিতায় পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা, মা ও শিশুর গর্ভকালীন পরিচর্যা এবং চিঠি লেখার সহজ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সেরা উদ্ভাবকের সম্মাননা পেলেন সাত ব্যক্তি। এদের মধ্যে ডিজিটাল মাতৃত্ব অ্যাপের জন্য খালেদ আশরাফ-কে ৯০ লাখ টাকা, মা ও নবজাতকের জন্য প্রযুক্তি সেবা দিয়ে মেহেদী হাসান পেয়েছেন ৬০ লাখ টাকা। এছাড়াও ডায়নামিক লেটার বিল্ডারের জন্য উদ্ভাবক হাসিব উদ্দিন পেয়েছেন ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বাকি ৪টি পুরস্কার দেয়া হয়েছে পানির ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধানকে। এরা হলেন ওয়াটার ওয়াইজ থিংক উদ্ভাবনের জন্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এডভান্স মনিটরিং সিস্টেমের জন্য আহমেদ নাসিফ হোসাইন অয়নকে ২০ লাখ টাকা, ওয়াশ মেট্রিক এর জন্য মো: খালেদ হাসান মোর্শেদুল বারিকে ২৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং পানি ধী এর এএইচএম রেজওয়ানুল ইসলামের হাতে সিডমানি হিসেবে ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) রাজধানীর বিএফ শাহীন হলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।   

পুরস্কা বিতরণের আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও চীনের উদাহরণ টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আজকের বিশ্বে কেউ দেশ দখল করতে আসবে না। অসংখ্য রিসোর্স থেকে সম্পদ আহরণ করতে আসবে। 

প্রতিটি শিল্পে প্রচুর পানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে ভোগ বাড়ছে। তাই চাহিদা মেটাতে পানির রিসাইকেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ না করি তবে লক্ষ্য ছুঁতে পারবো না।   এজন্য আমাদের পশ্চাদপদতা থেকে এগিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যে গতবারের চেয়ে এ বছর ডেঙ্গুর প্রোকপ আরো বাড়বে এবং চ্যালেঞ্জের হবে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী।

আত্ম নির্ভরশীল স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী সবাইকে নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এরই প্রকাশ বিভিন্ন ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ। 

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আমার কোলাবরেটিভ উদ্যোগ নিয়েছি। এর ধারাবাহিকতায় দেশে তৈরি রকেট তিন কিলোমিটার পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে। ১০ কেজি ওজন ব্যবহারে সক্ষম ড্রোন বানানো সম্ভব হয়েছে। এবার লালমনিরহাটেই পিকো স্যাটেলাইট তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উদ্যোগ বাস্তবায়নে সেখানে ‘ক্লিন রুম’ স্থাপনের জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সারা বিশ্ব থেকে শিখবো, সবার সঙ্গে মিলে চলবো। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকটি জিনিস নিজেদের থাকতে হবে। দেশেই সব প্রযুক্তির পণ্য ও সেবা তৈরি করতে সক্ষম হবো। এমন উদ্ভাবন আমাদের সময় ও খরচ কমাবে।  

এটুআই প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল হামিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ এস এম ফখরুল ইসলাম ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বক্তব্য দেন।

অন্যান্যের মধ্যে এটুআই ইনোভেশন ফান্ড প্রধান নাঈম আশরাফী, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিষয়ক পরামর্শক মাহতাব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছে: ৪৬ বার