চট্টগ্রামে হচ্ছে বিশ্বমানের হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার

প্রকাশঃ ০৩:৪৫ মিঃ, মার্চ ১২, ২০১৯
Card image cap

চট্টগ্রামে হচ্ছে বিশ্বমানের হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে হচ্ছে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিএফআইডিসি রোড সংলগ্ন চাঁদগাঁও ও চর রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং আগ্রাবাদে ব্যাংকক-সিংগাপুর মার্কেটের ৬-১১ তলায় হবে এই স্থাপনা।  হাই-টেক পার্ক ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে গতকাল বেলা ১২টায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) জনাব হোসনে আরা বেগম এনডিসি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী জনাব শামসুদ্দোহা এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর গতকালই বেলা ৩টায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ব্যাংকক-সিংগাপুর মার্কেটের ৬-১১ তলা পর্যন্ত উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে নির্মিতব্য সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই সমঝোতার মাধ্যমে চলমান দুটি প্রকল্পের আওতায় একটি হাই-টেক পার্ক এবং একটি আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। নির্মাণের পর প্রথম ৩০ বছর এই পার্ক দুটি থেকে ৫০%-৫০% রাজস্ব সিটি করপোরেশন ও হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ভাগাভাগি করে নিবে। পরবর্তী সময়ে এই চুক্তি নবায়ন হতে পারে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি হবে, তেমনি হাই-টেক পার্কে হবে তাদের কর্মসংস্থান। এছাড়া হাই-টেক পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি তৈরি হবে দেশীয় উদ্যোক্তা।  

অন্যদিকে, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক)-এর উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট ভবনের ৬-১১ তলা পর্যন্ত সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে গত ১৮/০৭/২০১৮ তারিখে একটি চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় ২৪.৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে  আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলো। এই পার্কে প্রায় ২৫০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। সরকারি উদ্যোগে চট্টগ্রামে স্থাপিত এই পার্কে আইটি/আইটিইএস প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে স্টার্ট-আপদের জন্যও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।  

এর আগে সকালে নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ই-লার্নিং মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২০ হাজার পর্নো সাইট বন্ধ করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে কেউ আর এসব সাইটে না ঢুকতে পারে। 

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিন। কারণ ইন্টারনেট জ্ঞানের ভাণ্ডার। সেটাকে রুখা যাবে না। আমরা ইন্টারনেটকে সবার ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে কাজ করছি। তখন সব বয়েসীদের জন্য এটি নিরাপদ হবে। 

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চট্টগ্রামকে আগামী কযেক বছরের মধ্যে প্রযুক্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ১০ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। ১০ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৫৬ লাখ, এখন ১০ কোটি। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব হয়েছে ৯ হাজার। আরও হবে ২৫ হাজার ৫০০টি। চসিকের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাকি থাকবে না বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২০ বার