৫জি নিউ এরা ট্রান্সফরমিং আওয়ার লাইভস, সোসাইটি এন্ড ইন্ড্রাটিস

প্রকাশঃ ০৩:২১ মিঃ, মার্চ ২১, ২০১৯
Card image cap

১৫তম বেসিস সফটএক্সপো'র শেষ দিনে আজ ৫জি নিউ এরা ট্রান্সফরমিং আওয়ার লাইভস, সোসাইটি এন্ড ইন্ড্রাটিস শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম কমিশনার জনাব  আমিনুল ইসলাম। মূল  বক্তব্য প্রদান করেন জিএসএমের এশিয়া প্যাসিফিকের পরিচালক জনাব  রাহুল সাহা,  এরিকসনের বাংলাদেশ প্রধান জনাব  আব্দুস সালাম এবং হুয়াওয়ে নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সিইও জনাব  জ্যাং জ্যানজুন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  গ্রামীন ফোনের সিটিও জনাব  রাধে কোভাচেভিচ  এবং রবির সিইও জনাব মাহতাব উদ্দিন আহমেদ । সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যামটবের এর সাবেক সচিব টিআইএম নুরুল কবীর।  
বক্তব্যে বক্তারা বলেন- সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আর ডিজিটাল উন্নয়নের অন্যতম অবকাঠামো হলো ইন্টারনেট সংযোগ । সমগ্র দেশকে এই সেবার আওতায় না আনা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের সঠিক সুফল হতে বঞ্চিত হবে জাতি। এক্ষেত্রে এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা ৫জি নেটওর্য়াক। ১০ জিবিপিএস গতি সম্পন্ন ৫জি ৪জি এবং ৪.৫ জিবি ইন্টারনেট সেবা হতে ১০ থেকে ১০০ ভাগ উন্নত সেবা প্রদানে সক্ষম। লিটেনসি ১ মিলিসেকেন্ড। এর নের্টওয়ার্ক সক্ষমতা বানিজ্যিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে এ সম্ভাবনায় সারা বিশ্বেই ৫জি আজ প্রযুক্তি উন্নয়নের ভবিষৎ হিসাবে আলোচ্য । বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ইতিমধ্যে এ সেবার সুফল ভোগ করা শুরু হয়ে গেছে আবার কিছু কিছু দেশে চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। বাংলাদেশে ও শুরু হয়েছে ৫জির সম্ভাবনা সহ সেবা প্রদান বিনিয়োগ এবং মার্কেট রেডিনেস নিয়ে আলোচনা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ফাইভজি রোল আউটে আমাদের অবস্থান, সরকারের উদ্যোগ, দেশের অবকাঠামোগত দিক থেকে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য আমরা প্রস্তুত কিনা এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ৫জি ব্যাবহারে অন্যান্য দেশের উদাহরন দিয়ে বক্তারা জানান -
ফাইভ জি কে জনপ্রিয় করতে ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্বান্ত অনুযায়ী দেশটির সরকারি সংস্থা, অপারেটর ও ভেন্ডর সহ সংশি¬ষ্ট সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ৩ বছরের মধ্যে তারা টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোবাইল বাজারের কথা উল্লেখ করে তারা জানান দেশের আমদানীকৃত মোবাইলের ৫০ ভাগেরও বেশি অংশ ফিচার ফোন আমদানি করছে। যা নেটওয়ার্ক থ্রিজি, ফোরজি, ফাইভজি সেবার সুবিধাভোগের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হতে পারে।

বক্তারা বলেন, সর্বত্র বাধাহীন সংযোগ, নেটওয়ার্ক ইকোনমিক্স এন্ড ইনোভেশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্সফরমেশন, ম্যাসিভ আইওটি এন্ড ক্রিটিকাল কমিউনিকেশন এবং ব্রডব্যান্ড এনহান্সড করাই ফাইভজি সেবার মূল সুবিধা । আরো বলা হয়, বর্তমান সময়ের মোবাইল গ্রাহক এবং স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীরা চায় ডাটা সেবা এবং এই সেবা প্রদান সহজীকরনে ৫জি সেবার প্রয়োজনীয়তাই এখন আলোচ্য। তারা আওে বলেন- এক্ষেত্রে দেশের জাতীয় আয়ে মোবাইল ইন্টারনেট সহ মোবাইল সেবার অবদানের কথা উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন- বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী এবং এর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান সেই সাথে বাড়ছে স্মার্টফোন ব্যাবহার কারীর সংখ্যাও । বাজার বাড়ছে তাই আমরা মনে করি ৫জি সেবা চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ সমগ্র দেশকে একটি উচ্চমানের ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা যাবে যা দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ব করবে । ৫জি সেবা প্রদানে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন – এর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমানটি বেশ বড় তাই এই বিনিয়োগের সফলতা নিশ্চিত করনে প্রয়োজন একটি সঠিক কর্মপরিকল্পনা, পলিসিগত উন্নয়ন সহ সরকার কতৃপক্ষের আন্তরিকতা। টেলিকম খাতের সমম্যা উল্লেখ করে বক্তারা আওে জানান -টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠার সমুহের ব্যবসায়িক মডেলে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ন তাই সরকার সহ সংশ্লিষ্ঠ সকল খাতের সমন্নয় ব্যাতীত ৫জি প্রচলন ও প্রসার কঠিন। এছাড়াও ৫জি সেবা চালু হলে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের উন্নয়ন সহ বর্তমান অবকাঠামোগত সমস্যা বিশেষ করে ৩জি এবং ৪ জি সেবা প্রদানের সমস্যা সমুহ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা সেই সাথে এই সমস্যা মোকাবেলা সহ ৫জির সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়গুলোতে ও আলোক পাত করেন বক্তারা।
এক্সপোর্ট স্ট্রাটেজি এন্ড মার্কেট রেডিনেস
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সভাপতি আলমাস কবীর । বিশেষ অতিথে হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সহ সভাপতি ফারহানা এ রহমান। মূল বক্তব্য প্রদান করেন টিএফও কানাডার প্রোগাম পরিচালক এবং সাংবাদিক মেরী হেদার হোয়াইট। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিএফও কানাডার বিপণন বিভাগের মিশেল হাসলা, আইটিসির জাজ ত্যাজম্যান সহ আরো অনেকে। সঞ্চালনায় ছিলেন সিট্রেডের কান্ট্রি প্রধান তানভীর আহমেদ।
মূল বক্তব্যে বক্তা কানাডায় তথ্য প্রযুক্তি রফতানীর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জানান কানাডায় মোট বানিজ্যের ৩৭% -ই সম্পন্ন হচ্ছে অনলাইনে এবং এর জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান। এছাড়াও কানাডায় অন্যান্য বানিজ্যিক সম্ভাবনা সহ বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্যে সুযোগ সুবিধা নিয়ে কথা বলেন বক্তা। আলোচনায় বক্তারা বলেন –রফতানী বানিজ্যে সফল হতে হলে বড় প্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন কথা নয় তবে উদ্যোক্তাদের তার পন্যের বাজার চাহিদা সর্ম্পকে জানতে হবে। জানতে হবে তার পন্যের বাজার ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকতে হবে দক্ষতা। রফতানীর ক্ষেত্রে পন্য রফতানীর চেয়ে সেবা রফতানীতে গুরত্ব দেন বক্তারা। এছাড়াও রফতানী বানিজ্যে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে রফতানী পরিকল্পনা, স্ট্রাটেজিস, ব্যয়, সুযোগ, চ্যালেঞ্জ, সিদ্বান্ত এবং যথাযথ বিনিয়োগ সহ ইত্যাদি বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। এছাড়াও মনোযোগী হতে হবে যথাযথ ডকুমেন্টেশনে। এছাড়াও ব্লকচেইন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বকÍারা।
বক্তব্যে বাংলাদেশে সিট্রেডের কাজের প্রশংসা করে বেসিস সভাপতি বলেন -প্রযুক্তির জগতে মেয়েদের কাজ করার সুযোগ অনেক এবং সিট্রেডের সহযোগিতায় নারী উদ্যোক্তারা আরো ভালো করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো জানান-আইটি-তে মেয়েদের অংশগ্রহন বাড়াতে বেসিস মহিলা কর্মকর্তাদের অনুদানের ব্যবস্থা করেছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ অনুযায়ী ৫ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্য অর্জন করতে নতুন জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি করে রপ্তানী বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহন অনস্বীকার্য।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১৬৭ বার