আমাদের হাতে অস্ত্র ছিলো না, কিন্তু অগণিত নিবেদিত যোদ্ধা ছিলো : কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক

প্রকাশঃ ০১:১৮ মিঃ, মার্চ ৩০, ২০১৯
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আজ (২৭ মার্চ ২০১৯) বেলা তিনটায় আইসিটি টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁও-এ আইসিটি বিভাগের পক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।


আইসিটি বিভাগের সচিব জনাব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে ‘মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনা বাস্তবায়নে আইসিটির ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার। আইসিটি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মু্ক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির। ১৯৫১ সালের ১১ এপ্রিল কুমিল্লায় জন্মগ্রহন করেন এই বীর। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সিয়ালকোটে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবহিনীর ১৪ প্যারা ব্রিগেডের অফিসার ছিলেন। পরে ভারতে পালিয়ে এসে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করেন।


সমবেত জাতীয় সংগীত, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হতে পাঠ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে ০১ (এক) মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) জনাব হোসনে আরা বেগম এনডিসি মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন। দেশের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের দায়বদ্ধতার কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।


প্রধান আলোচকের বক্তব্যে লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, দেশের মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছিলো অপার আস্থা। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো। তাই সেসময় আমি দেখেছি অস্ত্রের চেয়ে যোদ্ধাই বেশি ছিলো। সবাই যুদ্ধ করতে চেয়েছিলো। সবাই তার ডাকে মরার জন্য প্রস্তুত ছিলো। ভারতে কতশত মানুষ যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, নিজ চোখে তা দেখেছি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানের চেয়ে সব দিক থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এক মার্কিন ডলার এর বিপরীতে টাকার মূল্যমান যেখানে ৮১ টাকা, সেখানে পাকিস্তানী রূপীর মূল্যমান ১৪১ রূপী। এখান থেকেই দুই দেশের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুণর্গঠনে যখন বঙ্গবন্ধু হাত দিয়েছিলেন তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। এসব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। ১৯৭৪ সালেই তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ যোগ দেয় আন্তর্জাতিক টেলিকেমিউনিকেশন ইউনিয়নে (আইটিইউ)। তারই সিদ্ধান্তে বেতবুনিয়ায় স্থাপন করা হয় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কণ্যা তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।


আইসিটি বিভাগের সচিব জনাব এন এম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭২ বার