গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দপ্তর। ঢাকা জিপিওতে ক্ষণগণনা ডিসপ্লে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মুজিবজন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী সম্বলিত পোস্টকার্ড পাঠাবে ডাক বিভাগ

প্রকাশঃ ০৩:৫৫ মিঃ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন মুজিবজন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিস্তৃত ৯হাজার ৮শত ৮৬টি ডাকঘরের মাধ্যমে চারকোটি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনার হাতের লেখা শুভেচ্ছা বাণী সম্বলিত পোস্টকার্ড পাঠাবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। এছাড়া ডাক বিভাগে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক স্ট্যাম্পগুলোর বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত ডাকটিকিট হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনের কালানুক্রম অনুসরণ করে ১০০টি ছবিকে আর্টওয়ার্কে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এই উপলক্ষে গোল্ড ফয়েল যুক্ত পোস্ট কার্ডও প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় জিপিওতে মুজিবশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনায় ডাক বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দুটি ডিজিটাল ডিসপ্লে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা জানান। মন্ত্রী এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনার জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধনের পরবর্তিসময়ে টঙ্গিতে টেলিফোন শিল্পসংস্থা কার্যালয়, গুলশানে টেলিটক সদর দপ্তর এবংঢাকার পরিবাগে বিটিসিএল সদর দপ্তরে পৃথক পৃথকভাবে স্থাপিত ক্ষণগণনার ডিজিটাল ডিসপ্লে উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে গিয়েছি, দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু যার অঙ্গুলি হেলনে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। সেই বিজয়ের দিনও তিনি পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যুর মুখোমুখী দাঁড়িয়ে। ৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরলেন কিন্তু পরিবারের কাছে না গিয়েতিনি আসলেন রেসকোর্স ময়দানে জনতার কাছে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারি আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট, ৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলন, ৬২‘র ভাষা আন্দোলন, ৬৬এর ছয়দফা, ৬৯‘র গণঅভ্যূত্থান ৭০ এর নির্বাচনের তাঁর আপসহীন তেজস্বী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলেআরো বিশ বছর আগেবাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হতো বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা আজ তারই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের ফলে বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে।বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি ডাকও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও এর অধীন দপ্তর ও সংস্থা সমূহের কর্মকর্তা -কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পথ দেখাচ্ছেন, যার যার অবস্থান থেকে আমরা যদি সঠিকভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি তবে ডাক বিভাগ, টেলিটক, টেশিস, বিটিসিএল, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল লিমিটেডসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন প্রতিটি সংস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গত দুই বছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দেশকে দেব, দেশ আমাদের দেবে।

মন্ত্রী ডিজিটাল বোতাম টিপে সংস্থা সমূহের ক্ষণগণনার ডিজিটাল ডিসপ্লের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবনূর- উর- রহমান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র বক্তৃতা করেন।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিয়ুর রহমান, টেলিটক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাহাব উদ্দিনসহ অধীনস্থ সংস্থা সমূহের উধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১০৪১ বার