ই-কমার্সে পণ্য সরবরাহে ভয়

প্রকাশঃ ০৫:২৬ মিঃ, মার্চ ৩০, ২০২০
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:

রাজধানীর ধানমণ্ডির ফরিদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। আজ সোমবারই তাঁর সেখানে পাড়ি জমানোর কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি আটকে যান। এখন সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। উপায় না দেখে অনলাইনে কেনাকাটা করে দিন কাটাচ্ছেন। ই-কমার্স কম্পানিগুলো যদিও বলছে, তারা সব কিছু জীবাণুমুক্ত করেই সরবরাহ করছে। কিন্তু তার পরও এই ভোক্তা শঙ্কিত। ই-কমার্স পণ্যের মাধ্যমে যাতে কোনোভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁর।

পণ্য সরবরাহের কাজে যেসব কর্মী বিভিন্ন লজিস্টিক ও ই-কমার্স কম্পানিতে কাজ করছেন তাঁদের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই তাঁদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া এবং ওয়্যারহাউসগুলোকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) চিফ অপারেটিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন, ‘এটুআই (এক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্প এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের নির্দেশনার আলোকে আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংক্রমণ রোধে আমরা ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, তারা ওয়্যারহাউস জীবাণুমুক্ত রাখবে। যেসব পণ্য ওয়্যারহাউসে ঢুকবে তা কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা থাকা নিশ্চিত করতে হবে। দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেককে আমরা পিপিই পরার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। প্রডাক্ট যখন ডেলিভারি করবে তখন বাড়তি একটি পলিথিন মোড়ানো থাকবে, যা খুলে ফেলে দিতে হবে। দূরত্ব বজায় রেখে ডেলিভারি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই জরুরি পরিস্থিতিতে যাঁরা ই-কমার্সে খাদ্যপণ্য ও ওষুধ বিক্রি করেন তাঁদের আমরা বলেছি, সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে অপারেশন অব্যাহত রাখতে। প্রচুর চাহিদা আছে, কিন্তু ডেলিভারিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তাঁরা ঢাকার বাইরে ডেলিভারি দিতে পারছেন না। লোকবল সংকটে সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না।’

এদিকে সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কর্মীকে ওয়্যারহাউস বা অফিসে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হয়ে ঢুকতে হবে, ওয়্যারহাউস জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, লজিস্টিক সেবায় কর্মীদের মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণ ব্যবহার করতে হবে, পণ্য এবং প্যাকেট পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হতে হবে, প্রয়োজনে বাড়তি পলিপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। ডেলিভারির জন্য পরিবহনকে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। সঙ্গে স্যানিটাইজার রাখা যেতে পারে। ক্রেতার সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব রেখে পণ্য হস্তান্তর করতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করতে হবে, অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে বাসায় বিশ্রামে পাঠাতে হবে। ডেলিভারি পরিবহনে রাইড শেয়ারিং নিষিদ্ধ। জরুরি নিত্যপণ্য ও ওষুধ ছাড়া এই প্রত্যয়ন প্রযোজ্য নয়। এটুআই, একশপ, ক্যাবিনেট ডিভিশন, আইসিটি ডিভিশন ও ই-ক্যাবের জরুরি করণীয় প্রচারপত্রের বিধি মেনে চলতে হবে এবং তার কপি প্রতিটি লজিস্টিক কর্মীকে দিতে হবে।

এসব নির্দেশনা কতটুকু পালন হচ্ছে জানতে চাইলে চাল-ডালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি স্তরে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি। প্রতিটি ওয়্যারহাউসে হ্যান্ডওয়াশ, বেসিনসহ সব ব্যবস্থা রেখেছি। প্রতিটি ডেলিভারি ম্যানের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক এবং বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

চীনের আলিবাবা গ্রুপের মালিকানাধীন দারাজ বাংলাদেশের হেড অব পিআর, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন শায়ন্তনি তিশা বলেন, ‘আমাদের পুরো ডেলিভারি টিমকে ওয়্যারহাউসে ঢোকানোর আগে তাপমাত্রা পরিমাপ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি সংক্রমণমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর একটি পণ্য ডেলিভারিতে পাঠানো হচ্ছে। ডেলিভারির আগে আবার সেটি সংক্রমণমুক্ত করে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।’

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘আমরা ওয়্যারহাউস, প্যাকেট সংক্রমণমুক্ত নিশ্চিত করে ডেলিভারি দিতে বলেছি। ডেলিভারির সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা তাঁদের ট্রেনিংসহ অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছি। প্রতিনিয়ত তাঁদের ফলোআপের মধ্যে রাখা হয়েছে। পণ্য ডেলিভারির অনুমতিসংবলিত বিভাগীয় কমিশনারের একটি প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছি। তাঁরা যাতে এসব নিশ্চিত করেন, এই শর্তেই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে।’

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭১৩ বার

সম্পর্কিত পোস্ট