৪৫তম "আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ঢাকা" এর আয়োজক হল বাংলাদেশ তরুণদের প্রোগ্রামিং এ উৎসাহিত করতে হবে... আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক

প্রকাশঃ ০২:৩০ মিঃ, মার্চ ৯, ২০২২
Card image cap


টেকওয়ার্ল্ড প্রতিনিধি:
তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রতি বছর বিশেষভাবে আয়োজিত হয় "ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইসিপিসি)"। এই আয়োজনটির ৪৫তম আসরের "আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ঢাকা" এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হল আইসিপিসি। আইসিপিসি আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেলর বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে আইসিপিসি ফাউন্ডেশন। আইসিপিসি এর ৪৫তম আসরের আয়োজক হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এ প্রোগ্রাম আয়োজনের গ্লোবাল হোস্ট 'আইসিপিসি ফাউন্ডেশন', একাডেমিক হোস্ট 'ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক', বাংলাদেশ এবং সহ-আয়োজক হিসেবে কাজ করছে 'বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল'।

এই আয়োজনকে ঘিরে বিসিসি একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ৮ মার্চ ২০২২, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ার-এর বিসিসি অডিটরিয়ামে আয়োজন করে যেখানে "আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ঢাকা ২০২২" এর হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি। এই আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ, আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. বিল পাউচার, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান এবং আইসিপিসির উপনির্বাহী পরিচালক ড. জেফ ডোনাহু। এছাড়া, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আব্দুল মান্নান পিএএ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মেধা দিয়ে বিশ্বকে জয় করতে হবে উল্লেখ করে বলেন তরুণদের প্রোগামিং এ উৎসাহিত করতে পারলে সবকিছু ডিজিটাল করতে খুব একটা সময় লাগবে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় মেধার কোন বিকল্প নাই। মেধাকে কাজে লাগিয়ে জয় করতে হবে এ বিপ্লব। পলক তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্য বলেন সমস্যা সৃষ্টিকারী না হয়ে সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। প্রোগ্রামিং বিশ্ব পরিবর্তনের হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন ইংরেজি, গণিত-সহ সাধরণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছোট বেলা থেকেই প্রোগ্রামিং শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন ডাক্তার, সাংবাদিকসহ যেকোন পেশায় সাফল্য বয়ে আনতে গণিত ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি কোডিং ও প্রোগ্রামিং শিক্ষার বিকল্প নাই। তিনি বলেন আমাদের আগামীর লক্ষ্যে হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানসমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তুলতে  দেশে ৩০০টি স্কুল অব ফিউচার, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে দেশের অগ্রগতি। এই অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা যেন একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ে তুলতে পারি এবং সম্পদ ও সেবার সুষম বণ্টন করতে পারি এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন যে, আমরা যে জ্ঞান অর্জন করেছি তা অতিক্রম করতে পারলে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে পারলেই আমাদের দেশ আরও বড় হতে পারে। তিনি বলেন যে, আমরা দেশের যুবক-যুবতীদের, ছাত্র-ছাত্রীদের এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার লক্ষ্যে দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছি।

আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. বিল পাউচার প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন যে, আইসিপিসি হল আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সজ্জিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরই একটি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল খুব সফলভাবে আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

৪৫ তম আইসিপিসি আসরের একাডেমিক হোস্ট ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন যে আইসিপিসি হল এমন একটি প্রিমিয়ার গ্লোবাল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা যা প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত সবচেয়ে পুরনো, বৃহত্তম এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এর সূচনা থেকে, প্রতিযোগিতাটি একটি গেম-চেঞ্জার প্রতিযোগিতামূলক এডুকেশনাল প্রোগ্রামে পরিণত হয়েছে। এটি কম্পিউটিং সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের সমস্যা সমাধানকারী প্রজন্মের কর্মক্ষমতার মান বাড়ায়। এমন একটি আয়োজনের পাশে থাকতে পারাটা ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের জন্য সত্যিই একটি বড় গৌরবের বিষয়।

এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই ইভেন্টের আয়োজন করছে এবং চীন, জাপান এবং থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশ এশিয়ার মাত্র ৪র্থ দেশ যারা এই ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস চ্যান্সেলর থাকাকালীন ঢাকায় আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। সেজন্য ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক এই ইভেন্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান হয়েছে। বিশ্ব আসরে বাংলাদেশ ১৯৯৮ সাল থেকে আইসিপিসি-তে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ গ্রহণ করে আসছে। উল্লেখ্য, গত বছর এশিয়া ওয়েস্ট রিজিওনাল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সম্মান অর্জন করে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে আইসিপিসি মূলত ৮টি রিজিওনালে আয়োজিত হয়। এ বছর ৭৫ টি দেশ থেকে প্রায় ১৫০টি দল এই কনটেস্টের চূড়ান্ত রাউন্ডে অংশ নিতে যাচ্ছে। উক্ত ১৫০ দলে প্রায় ৬০০ জন মেধাবী প্রতিযোগী অংশ নিবেন। এছাড়া, আইসিপিসির ৪৫তম আসরকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগী ছাড়াও কর্মকর্তাসহ অন্তত এক হাজারেরও বেশি বিদেশি অতিথির আগমন আশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বর ২০২২ অর্থাৎ ৬ দিনব্যাপী ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) তে অনুষ্ঠিত হবে "আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ঢাকা ২০২২"। ৪৫তম আসরের প্রস্তুতি এবং সফল আয়োজনের লক্ষ্যে আইসিপিসি মূল দলের ১১জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি অভিজ্ঞ দল ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। 

আইসিপিসির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সাল থেকে। যদিও ১৯৭৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই আয়োজনের দায়িত্বে ছিল কম্পিউটারের বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি (এসিএম)। শুরুর দিকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দলই এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক ‍বৃদ্ধি পায় যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানজনক আয়োজনের একটি। আইসিপিসির চূড়ান্ত পর্ব আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকে কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়। আইসিপিসির মূল কমিটির অনুমোদন নিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি আয়োজনের সব দায়িত্ব পালন করে থাকে। তবে প্রয়োজনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোন দেশের সরকার বা অপর প্রতিষ্ঠান সহ–আয়োজক হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও আগে থেকেই আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের অনুমতি নিতে হয়। আয়োজক হওয়ার আবেদন করার জন্য প্রাথমিক কিছু যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক। একই সাথে বৃহৎ এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় প্রথম জাতীয় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার (এনসিপিসি) ফাইনাল আয়োজন করা হয় যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১১৬ বার