শমী কায়সার সহ ই-ক্যাব নির্বাচনে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছে ৫ জন নারী

প্রকাশঃ ০৮:৪৯ মিঃ, জুন ১৭, ২০২২
Card image cap

 ইক্যাব আজ সকল মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে খুবই খুশী যে তথ্যপ্রযুক্তি ইন্ড্রাষ্ট্রীতে অন্য যেকোন সংগঠন হতে ইক্যাবের গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেশী। কারন হলো এর যোগ্য সদস্যরা। তাই আমার বিশ্বাস তাদের বিবেচনা সংগঠনের জন্য ভালো কিছুই হবে। তারা সাথে ছিলেন বলেই ইক্যাব আজ সবার কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নাজনিন নাহার :

করোনা পরবর্ত্তী সময়ে অথাৎ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারীর পর হতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় সবগুলো বানিজ্যিক সংগঠনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বেসিস , বাক্য , বিসিএস , আইএসএবি সহ প্রতিটি সংগঠনেই এসেছে নতুন নেতৃত্ব । কিন্তু সব ছাপিয়ে আলোচনার শীর্ষে ই-ক্যাব নির্বাচন ২০২২। বিগত ৭ বৎসরে প্রথম বারের মত আগামীকাল ১৮  জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে -ক্যাব নির্বাচন। আর এই নিয়েই এই মহুর্তে ইন্ড্রষ্ট্রীর যত জল্পনা কল্পনা। এর অন্যতম কারন হচেছ এটি সংগঠনের প্রথম প্রতিদ্বন্দিতামূলক নির্বাচন দ্বীতৃয়ত -সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহন। সবমিলিয়ে একটা বড়সড় উৎসবে পরিনত হয়েছে  এই নির্বাচন ।  ৯টি পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ৩১ জন সদস্য। ৩টি প্যানেলে ২৭জন ছাড়াও সতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করেছেন ৪ জন  

তবে এই নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য দিক হলো নারীর অংশগ্রহন । নির্বাচনে ৩টি প্যানেলে মোট ৫জন নারী অংশগ্রহন করেছেন যা নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক।  ৫জন নারীর মধ্যে অগ্রগামী প্যানেলে হতেই নির্বাচন করছেন ৩ জন। তারা হলেন ধানসিড়িঁ কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং ইক্যাবের বিদায়ী কমিটি সভাপতি শমী কায়সার, রিভারি সিইও নাসিমা আক্তার নিশা এবং ফুডপান্ডার সহপ্রতিষ্ঠাতা আম্বারিন রেজা। অপরদিকে চেঞ্জমেকারর্স  এবং ঐক্য প্যানেল হতে নির্বাচন করছেন যথাক্রমে হুর নুসরাত ফাশন হা্উসের স্বত্বাধীকারী নুসরাত লোপা এবং গ্লোবাল ফ্যাশন এবং মেনশন মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদা হায়দার রীমা। নির্বাচন নিয়ে তাদের শেষ সময়ের ভাবনা নিয়েই আমাদের আজকের লেখা-

শমী কায়সার

২০১৪ হতে ২০২২ সাল – ইকর্মাসের মত একটি নতুন ধারার ইন্ড্রাষ্ট্রীর অবকাঠামো তৈরীর জন্য  যথেষ্ট নয়। এর মাঝে বিগত দুই বৎসর আমাদের জন্য ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জের । কেননা একদিকে আমাদের  উদ্যোক্তাদের ব্যাবসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সহ  পন্য ডেলিভারী দেয়ার সমস্যা অন্যদিকে আবার কতিপয় সদস্য প্রতিষ্টান নিয়ে বিব্রতি কর পরিস্থিতি । সব মিলিয়ে আমরা কঠিন একটা সময় পার করে এসেছি। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে  তুলনামূলক নতুন  বানিজ্যিক সংগঠন হিসাবে আমাদের অনেক চড়াই উৎরাই পেরুতে হয়েছে। আমরা পুরো নির্বাহী কমিটি আমাদের সাধ্য মত কাজ করে আজকের এই জায়গায় এসেছি। আজ ইকমার্স খাত নিয়ে যত কথা হচেছ- হোক সে সমালোচনা বা আলোচনা সবকিছু এটাই প্রমান করে আমরা সংগঠনকে পুরো ইন্ড্রষ্ট্রীতে সব মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত করতে পেরেছি। এটাই আমাদের বড় অর্জন। গত দুবছরে বিশেষ করে কোভিড সময়ে সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষন থেকে সরকারের সাথে থেকে সরকারী উদ্যোগের বাস্তবায়নে সহযোগিতা , সর্বোপরি সাধারণ জন্য মানবসো কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে ইক্যাব প্রশংসা কুড়িয়েছে সকল মহলের কাছ থেকে। পেয়েছে কাজের স্বীকৃতি ।  তাই ইক্যাব আজ সকল মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে খুবই খুশী য়ে তথ্যপ্রযুক্তি ইন্ড্রাষ্ট্রীতে অন্য যেকোন সংগঠন হতে ইক্যাবের গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেশী। কারন হলো এর যোগ্য সদস্যরা। তাই আমার বিশ্বাস তাদের বিবেচনা সংগঠনের জন্য ভালো কিছুই হবে। তারা সাথে ছিলেন বলেই ইক্যাব আজ সবার কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নাসিমা আক্তার নিশা:

দেশে এখন নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। জাতীয় অর্থনীতি এবং দেশীয় পন্যের বাজার তৈরীতে আমাদের নারীদের অংশগ্রহন আশাতীত। এটা সম্ভব হয়েছে কারন আমাদের সরকার নারী বান্ধব । নারীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিকে একটি সুযোগ হিসাবে ভাবছি আমরা । আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজটি করতে সহেযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে ছিল ইক্যাব এবং উই। মূলত ইক্যাবের সহেযোগিতা এবং উৎসাহে এক দুইজন করে আমরা আজ লাখো উদ্যোক্তা পরিবার। দেশীয় পন্যকে দেশের গন্ডী ছাড়িযে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যাবে আমাদের নারী উদ্যোক্তারা। তাদের সেই সম্ভাবনা আছে । প্রথমে উইয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছি তারপর তাদের মূলধারারর সাথে অর্থাৎ ইক্যাবের সাথে সংযুক্ত করছি। আমরা এগিয়ে যাব এটাই বিশ্বাস করি কারন বিগত ৭ বছরে ইক্যাব আমারদের নারী উদ্যোক্তা তৈরীতে যে সহায়তা করে আসছে তা অনস্বীকার্য এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি ।

আম্বারীন রেজা:

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ‍ডিজিটাল ‍ইকোনমি বা ডিজিটাল বিজনেসের কোন বিকল্প নাই। অপরদিকে দেশে অর্ধশতাংশ জনসংখা নারী  এবং অর্থনীতেতে তাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন ব্যতীত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা ডিজিটাল ইকোনমী গড়ে তোলা কঠিন। তাছাড়া ‍ ডিজিটাল ইকোনোমীতে নারীর কাজ করবার সুযোগ অন্য যেকোন খাতের তুলনায় বেশী। হোক সে পেশা হিসাবে হোক সে উদ্যোক্তা হিসাবে। এটা খুবই আনন্দের বিষয যে ‍বিগত বছরগুলোতে নারী উদ্যেক্তাদের কাছে ব্যবসা করার জন্য অন্য যে কোন খাতের তুলনায় আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বিশেষ করে ইকমার্স বা এফকমার্স। বর্তমানে গার্মেন্টস এর পর সম্ভবত  এখাতেই নারীর অংশগ্রহনের হার বেশী বিশেষ করে উদ্যোক্তা হিসাবে। এর অনেক বড় কারন হলো ইক্যাব। ইক্যাব বিগত অল্প ক,টি বছরের মধ্যেই ইকমার্সের সাথে নারীকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে প্রশংসনীয় হারে। এই উদ্যোক্তাদের আরো শক্তিশালী  করে তুলতে হবে যাতে করে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্বল করতে পারে। তাদের পাশে থেকে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে স্টাটআপ একাডেমী তৈরী করার স্বপ্ন দেখছি আমরা। এবং আমরা বিশ্বাস করি সদস্যদের সহযোগিতায় আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারবো এবং আমাদের নারীরা তাদের দক্ষতা দিয়ে এগিয়ে যাবে বিশ্ব বাজারে এবং পরিনত হবে দেশের সম্পদে।

 নুসরাত লোপা:

তথ্যপ্রযুক্তিখাত বাংলাদেশ একটি  সম্ভাবনাময়  খাত। এ খাতে কাজ করার সুযোগ অন্য যেকোন খাতের চেয়ে বেশী বিশেষ করে নারীদের জন্য। ২০১২ সালে এফকমার্সের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাথে আমার সমপৃক্ততা। সামান্য ১২০০ টাকার পুজিঁ নিয়ে যে ব্যবসা শুরু করা যায় সেই ভাবনাটা কিছু বছর আগেও আমাদের কাছে অকল্পনীয় ছিল। আমার কাছে তো বটেই। কিন্ত এফকমার্স সেই সুযোগটা এনে দিয়েছে আমাদের নারীদের। ছোট্ট একটা পেইজ হতে শুরু করে আজ আমি একজন সফল উদ্যাক্তা হতে পেরেছি কেবল তথ্যপ্রযুক্তির এই সুযোগটাকে যথাযথ কাছে লাগতে পেরেছি বলে। কারিগর হতে শুরু করে মার্কেটিং ,প্যাকিজিং , কাস্টমার কেয়ার ইত্যাদি বিষয়গুলো দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছে আমাকে । কারন সফলভাবে এগিয়ে যেতে দক্ষতার কোন বিকল্প নাই। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই আমি। আর এইকাজের সফলতায় সবার সহযোগিতার পাশাপাশি উদোক্তা লড়াই ‍হিসাবে আমার এই ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজটাকে সহজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

তৌহিদা হায়দার: 

তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহন বাড়াতে হবে । তথ্যপ্রযুক্তির মূলধারায় এবং নীতিনিধানরী ভূমিকায় নারীর অংশগ্রহন এখন সময়ের দাবী। আমি দীর্ঘদিন এই ইন্ডাষ্ট্রীতে কাজ করছি। এবং ব্যাক্তিগতভাবে আমি একজন প্রকৌশলী। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ করে ইকমার্সে নারীর গুনগত অংশগ্রহন বাড়াতে হবে বলে আমি মনে করি। যার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের ইতিবাচক আগ্রহ। এই আগ্রহ সৃষ্টিতি ইতোমধ্যে সফলভাবে কাজ করছে ই-ক্যাব। তবে নারীদের সঠিকভাবে দক্ষ করে তুলতে না পারলে অনেক উদ্যোক্তাই সমস্যা মোকাবেলা করতে না পেরে ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।  সেই সাথে তাদের অনলাইন নিরাপত্তা সহ ব্যাবসা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোতে সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। আমি বিশ্বার করি নারীদের এই সহযোগিতা গুলো খুবই প্রয়োজন কেননা এতে করে ইকমার্সে তাদের অবস্থানটা শক্তিশালী হবে। 

পরিশেষে

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোতে অনুষ্টিত নির্বাচনের মধ্যে সবোর্চ্চ  নারী প্রার্থী অংশগ্রহন করেছে ইক্যাবের এই নির্বাচনে। এটা ইতিবাচক। উল্লেখ্য যে দেশে ইকমার্সের বিশাল অংশ জুড়ে আছে ফেইসবুক কমার্স আর ফেইসবুক কমার্সের ৭২ শতাংশ উদ্যোক্তাই নারী। পরিশেষে প্রাথীদের মত আমরাও চাই দেশে ইকমার্স খাতে নারীর অংশগ্রহন আরো বাড়ুক ।  তারা তাদের দক্ষতা বৃদ্বির মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান কে শক্তিশালী করুন এবং তাদের সাথে এগিয়ে যাক সকল নারী। নির্বাচনে ফলাফল যেটাই হোক না কেন নারীদের এই এগিয়ে এসে ২৬ জন পুরুষ সদস্যদের সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করাটাই বড়।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি জনাব আমিন হেলালী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনাব আব্দুর রাজ্জাক ও বজলুর রহমান। আপিল বোর্ডে রয়েছেন সাবেক শিক্ষা ও আইসিটি সচিব জনাব নজরুল ইসলাম খান, সদস্য জনাব দেলোয়ার হোসেন খান রাজিব ও হারুনুর রশিদ। 


সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৩৫১ বার

সম্পর্কিত পোস্ট