বিশ্ববাজার থেকে এপ্রিলেই সরে যেতে পারে ওয়ানপ্লাস
স্মার্টফোন বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়ানপ্লাস। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক বাজার থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে চীন ও ভারতের বাজারে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। ইউরোপসহ কিছু অঞ্চলে কার্যক্রম বন্ধেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই খবর নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়ানপ্লাস ভারতে এন্ট্রি ও মিড-রেঞ্জ বাজারে আরও মনোযোগ দেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তথ্যদাতা যোগেশ ব্রার জানিয়েছিলেন যে কোম্পানি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কার্যক্রম বন্ধ করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনলাইনেই নানা গুঞ্জন চলছিল। ইউরোপের বড় অংশসহ কয়েকটি অঞ্চলে এ কার্যক্রম চলতি বছর এপ্রিল নাগাদ শুরু হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মীকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। ওয়ানপ্লাস ভারতের প্রধান নির্বাহী রবিন লিউ পদত্যাগ করে চীনে ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় ওয়ানপ্লাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
২০২০ সালে ওয়ানপ্লাস ইউরোপে নিজের কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত করেছিল। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের অফিস বন্ধ বা সংকুচিত করা হয়েছিল। এর পেছনে ছিল সহ-প্রতিষ্ঠাতা কার্ল পেই এর বিদায়। এরপর থেকে মূল প্রতিষ্ঠান ওপো’র সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ওয়ানপ্লাসের সাবেক প্রধান পিট লাউ বর্তমানে অপোর প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, অপো অভ্যন্তরীণভাবে কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। এর প্রভাব পড়েছে অংশীদারিত্বেও। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘হ্যাসেলব্লাড’ প্রযুক্তির ক্যামেরা ওয়ানপ্লাসের সর্বশেষ মডেলে ব্যবহার করা হয়নি, যদিও অপোর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে তা এখনো রয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেমোরি ও স্টোরেজ সংকট এবং দ্রুত বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয়ের কারণে চীনা ব্র্যান্ডগুলো চাপে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ওয়ানপ্লাসের বেশ কিছু নতুন পণ্য এখনও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে এগুলোর অনেকই চীনের বাইরে বাজারে নাও আসতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার আপডেট, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং কমিউনিটি ফোরামের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, রিয়েলমি ইতোমধ্যে অপোর অধীনে সাব-ব্র্যান্ড হিসেবে কাজ করছে। ফলে ওয়ানপ্লাসও ভবিষ্যতে একই ধরনের কাঠামোয় সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ব্যবহারকারীদের বিক্রয়োত্তর সেবা, সফটওয়্যার আপডেট এবং অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত থাকবে।
রবিন লিউয়ের বিদায়ের প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন। একই সঙ্গে ভারতে ওয়ানপ্লাসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক বাজারে ওয়ানপ্লাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, চীন ও ভারতের বাজারে নতুন কৌশল কীভাবে কাজ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র : নাইট টু-ফাইভ গুগল