নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ : সহজ টিপসে বাঁচান ব্যাটারি!
নতুন ফোন কিনেছেন? নিশ্চয়ই খুব খুশি? নতুন ফোন মানেই তো নতুন জগৎ। কিন্তু ফোনের ব্যাটারি লাইফ নিয়ে চিন্তা? চার্জ যেন ফুরোতেই চায় না! চিন্তা নেই, আপনি একা নন। নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানো নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি চিন্তিত থাকি।
নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর এই টিপসগুলো ফলো করলে আপনার ফোনের ব্যাটারি আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় টিকবে, আর আপনিও নিশ্চিন্তে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর সহজ টিপস
নতুন ফোন কেনার পর প্রথম কয়েক দিন ব্যাটারি লাইফ একটু কম মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, নতুন ফোন ব্যবহারের সময় আমরা অনেক বেশি অ্যাপ ডাউনলোড করি, গেম খেলি, ভিডিও দেখি – সব মিলিয়ে ফোনের ওপর একটু বেশিই চাপ পড়ে। কিন্তু কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করলে আপনি আপনার নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বেশ খানিকটা বাড়াতে পারেন।
ডিসপ্লে সেটিংস পরিবর্তন করুন
ফোনের ডিসপ্লে ব্যাটারির অন্যতম প্রধান শত্রু। ডিসপ্লে যত বেশি উজ্জ্বল থাকবে, ব্যাটারিও তত তাড়াতাড়ি শেষ হবে। তাই ডিসপ্লে সেটিংস পরিবর্তন করে ব্যাটারি লাইফ বাড়ানো সম্ভব।
ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা কমান
ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে পারেন, কিন্তু সবসময় ফুল ব্রাইটনেস রাখার দরকার নেই। ফোনের সেটিংসে গিয়ে ডিসপ্লে অপশন থেকে ব্রাইটনেস কমানোর অপশন পাবেন।
অটো ব্রাইটনেস বন্ধ করুন
অটো ব্রাইটনেস সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে। অনেক সময় এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। তাই অটো ব্রাইটনেস বন্ধ করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রাইটনেস সেট করুন।
ডার্ক মোড ব্যবহার করুন
ডার্ক মোড ব্যবহার করলে ডিসপ্লের ব্যাকগ্রাউন্ড কালো হয়ে যায়। এর ফলে ব্যাটারি কম খরচ হয়। বিশেষ করে OLED ডিসপ্লেযুক্ত ফোনের জন্য ডার্ক মোড খুবই উপযোগী। সেটিংস থেকে ডিসপ্লে অপশনে গিয়ে ডার্ক মোড চালু করতে পারেন।
স্ক্রিন টাইমআউট কমান
স্ক্রিন টাইমআউট হল কতক্ষণ পর আপনার ফোনের স্ক্রিন আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে তার সময়সীমা। স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে আনুন। যেমন, ৩০ সেকেন্ড অথবা ১৫ সেকেন্ড সেট করতে পারেন।
অ্যাপ্লিকেশন সেটিংস পরিবর্তন করুন
ফোনে থাকা বিভিন্ন অ্যাপও ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ করে দেয়। কিছু অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং ডেটা ব্যবহার করতে থাকে, যার ফলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ করুন
অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার করে। সেটিংস থেকে অ্যাপ রিফ্রেশ অপশনটি বন্ধ করে দিন। এর ফলে যে অ্যাপগুলো আপনার প্রয়োজন নেই, সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন
যে অ্যাপগুলো আপনি ব্যবহার করেন না, সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। এই অ্যাপগুলো শুধু আপনার ফোনের স্টোরেজ দখল করে না, ব্যাটারিও খরচ করে।
অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
অসংখ্য অ্যাপ সারাক্ষণ নোটিফিকেশন পাঠাতে থাকে, যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। সেটিংস থেকে অ্যাপ নোটিফিকেশন অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন।
কানেক্টিভিটি সেটিংস পরিবর্তন করুন
ওয়াইফাই, ব্লুটুথ এবং জিপিএস – এই তিনটি অপশন ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ করে দেয়। প্রয়োজন না থাকলে এগুলো বন্ধ রাখুন।
ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন
যখন ওয়াইফাই বা ব্লুটুথের প্রয়োজন নেই, তখন সেটিংস থেকে এগুলো বন্ধ করে দিন। কারণ, এই অপশনগুলো চালু থাকলে আপনার ফোন সবসময় নেটওয়ার্কের জন্য স্ক্যান করতে থাকে, যার ফলে ব্যাটারি খরচ হয়।
জিপিএস ব্যবহার সীমিত করুন
জিপিএস (GPS) লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ম্যাপ ব্যবহার করার সময় অথবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে জিপিএস চালু করুন, এবং কাজ শেষ হয়ে গেলে বন্ধ করে দিন।
এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করুন
যেসব জায়গায় নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে ফোন সবসময় ভালো নেটওয়ার্কের জন্য চেষ্টা করতে থাকে। এর ফলে ব্যাটারির ওপর বেশি চাপ পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে ব্যাটারি সাশ্রয় হয়।
ব্যাটারি অপটিমাইজেশন সেটিংস ব্যবহার করুন
প্রায় সব স্মার্টফোনেই ব্যাটারি অপটিমাইজেশনের অপশন থাকে। এই সেটিংস ব্যবহার করে ব্যাটারি লাইফ বাড়ানো যায়।
ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন
ব্যাটারি সেভার মোড ফোনের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ব্যাটারি সাশ্রয় হয়। যখন ব্যাটারি কম থাকে, তখন এই মোডটি ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যাপ ব্যাটারি অপটিমাইজেশন ব্যবহার করুন
ফোনের সেটিংসে অ্যাপ ব্যাটারি অপটিমাইজেশন অপশন থাকে। এখানে আপনি প্রতিটি অ্যাপের জন্য ব্যাটারি ব্যবহারের নিয়ম সেট করতে পারবেন। যে অ্যাপগুলো কম ব্যবহার করেন, সেগুলোর জন্য অপটিমাইজেশন চালু করে দিন।
অন্যান্য টিপস
উপরে দেওয়া টিপসগুলো ছাড়াও আরও কিছু ছোটখাটো বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে পারেন।
অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন
সবসময় আপনার ফোনের সাথে দেওয়া অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন। অন্য চার্জার ব্যবহার করলে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে এবং চার্জ হতে বেশি সময় লাগতে পারে।
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা থেকে বাঁচান
ফোনকে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা স্থানে রাখবেন না। অতিরিক্ত তাপ বা ঠান্ডা ব্যাটারির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন
ফোন কোম্পানিগুলো নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করে, যা ব্যাটারির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই আপনার ফোনের সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখুন।
পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করুন
যদি আপনি দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে থাকেন এবং চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকে, তবে একটি পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখতে পারেন।
কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
নতুন ফোন কেনার পর ব্যাটারি নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে। এখানে কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হল:
নতুন ফোনের ব্যাটারি কতক্ষণ চার্জ করা উচিত?
নতুন ফোন কেনার পর প্রথমবার ৮-১০ ঘণ্টা চার্জ দেওয়ার কথা বলা হলেও, আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য এর প্রয়োজন নেই। যখন ব্যাটারি ফুল চার্জ হয়ে যায়, তখন চার্জিং বন্ধ করে দিন।
ফোনের ব্যাটারি কি রাতে চার্জে বসিয়ে রাখা ঠিক?
রাতে চার্জে বসিয়ে রাখলে আধুনিক স্মার্টফোনের ব্যাটারির তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, ফুল চার্জ হয়ে গেলে চার্জিং আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। তবে, অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচাতে চার্জিংয়ের সময় ফোনটি কোনো ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
ব্যাটারি হেলথ কিভাবে ভালো রাখা যায়?
ব্যাটারি হেলথ ভালো রাখার জন্য সবসময় চেষ্টা করুন ২০% এর নিচে ব্যাটারি যেতে না দেওয়া এবং ৯০% এর উপরে চার্জ না করা। এছাড়াও, ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ফোনের সাথে আসা অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করা ভালো।
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ কী?
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন -
- ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা বেশি থাকা
- ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চালু থাকা
- ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস সবসময় চালু রাখা
- পুরোনো ব্যাটারি
- সফটওয়্যার আপডেট না করা
ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর জন্য কোন অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত?
প্লে স্টোরে অনেক ব্যাটারি সেভার অ্যাপ পাওয়া যায়, তবে এগুলো সবসময় কার্যকরী নাও হতে পারে। বরং ফোনের ডিফল্ট অপটিমাইজেশন সেটিংস ব্যবহার করাই ভালো। Clean Master বা DU Battery Saver-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এগুলো প্রায়ই ফোনের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়।
ব্যাটারি সেটিংস অপটিমাইজ করার জন্য আর কী কী করা যেতে পারে?
ব্যাটারি সেটিংস অপটিমাইজ করার জন্য আপনি অটো-সিনক্রোনাইজেশন বন্ধ করতে পারেন, ভাইব্রেশন কমিয়ে দিতে পারেন, এবং পাওয়ার সেভিং মোড ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও, ডেভেলপার অপশন থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট সেট করে দিতে পারেন।
নতুন ফোনে ব্যাটারি সংক্রান্ত সমস্যা হলে কী করা উচিত?
যদি নতুন ফোনে ব্যাটারি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে প্রথমে সেটিংস থেকে ব্যাটারি ইউসেজ চেক করুন এবং দেখুন কোন অ্যাপ বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করছে। এরপর সেই অ্যাপের সেটিংস পরিবর্তন করুন অথবা অ্যাপটি আনইনস্টল করে দিন। সমস্যা এরপরও থাকলে সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
পুরোনো ফোনের ব্যাটারি লাইফ কিভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়?
পুরোনো ফোনের ব্যাটারি লাইফ পুনরুদ্ধার করার জন্য নতুন ব্যাটারি লাগাতে পারেন। এছাড়াও, উপরে দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করে এবং ফ্যাক্টরি রিসেট করে দেখতে পারেন।
| টিপস | করণীয় |
|---|---|
| ডিসপ্লে সেটিংস | উজ্জ্বলতা কমান, ডার্ক মোড ব্যবহার করুন |
| অ্যাপ্লিকেশন সেটিংস | ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বন্ধ করুন, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন |
| কানেক্টিভিটি সেটিংস | ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস বন্ধ রাখুন |
| ব্যাটারি অপটিমাইজেশন | ব্যাটারি সেভার মোড চালু করুন |
| অন্যান্য | অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন, সফটওয়্যার আপডেট করুন |
নতুন ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানো কঠিন কিছু নয়। একটু সচেতন হলেই আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন। উপরে দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করুন আর আপনার নতুন ফোনটিকে উপভোগ করুন কোনো চিন্তা ছাড়াই।