এআই অ্যান্ড আইটি ফেস্ট ২০২৬
জবির এআই অ্যান্ড আইটি ফেস্টে এআই যুগের ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি এআই অ্যান্ড আইটি ফেস্ট ২০২৬’। প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের একত্রিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরার চমৎকার এক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই ফেস্টের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪০টি টেক ক্লাবের সহস্রাধিক তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচে এবং অডিটোরিয়ামে জবি আইটি সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেস্টে ছিল ‘ব্রেন চাইল্ড’, ‘এআই অ্যাডভেঞ্চার’, ‘এআই অ্যান্ড আইটি অলিম্পিয়াড’ এবং ‘রোবো সকার পার্টিসিপেশন কনটেস্ট’-এর মতো সময়োপযোগী সব আয়োজন। এছাড়া অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘টেক আনকাট সেশন’-এ ২০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ক্যারিয়ার প্যানেল ডিসকাশন
পূবালী ব্যাংক পিএলসি নিবেদিত এই ফেস্টের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল "Navigating Careers in the Era of AI & IT" শীর্ষক একটি বিশেষ প্যানেল ডিসকাশন। টেকওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ম্যানেজিং এডিটর মুন এম. রাজীবের সঞ্চালনায় এই সেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট, স্টার্টআপ, এজেন্সি এবং উন্নয়ন খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৯০ মিনিটের এই সেশনে এআই যুগে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বাস্তবমুখী আলোচনা হয়।
— মুন এম. রাজীব (সঞ্চালক ও ম্যানেজিং এডিটর, টেকওয়ার্ল্ড)

বিশেষজ্ঞদের দিকনির্দেশনা ও রিয়েলিটি চেক
ব্র্যান্ড ও রিটেইল ইন্ডাস্ট্রি
ডিবিএল লাইফস্টাইলস লিমিটেডের হেড অব বিজনেস রেজওয়ান হাবিব ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে রিটেইল ব্র্যান্ডিংয়ে রূপান্তরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, একটি নতুন স্টোর দাঁড় করাতে সাপ্লাই চেইন, ডেটা অ্যানালিসিস থেকে শুরু করে ভিজ্যুয়াল মার্চেন্ডাইজিং পর্যন্ত বিভিন্ন টিমের কাজ থাকে। এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়া একজন ফ্রেশারের সিভিতে তিনি কী খোঁজেন, তার বাস্তব উদাহরণ দেন তিনি।
স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের এভিপি (কমপ্লায়েন্স ও এইচআর) নাজমুল হুদা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ফান্ডিং প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সফল ফাউন্ডার হতে গেলে শুধু কোডিং জানলেই হবে না, বরং সমস্যা সমাধানের মানসিকতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মতো তিনটি মৌলিক গুণ থাকা অপরিহার্য।
ক্রিয়েটিভ ও এজেন্সি লাইফ
হাভাস বাংলাদেশের সিইও এবং লেখক কিঙ্কর আহসান বর্তমান ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। এআই যখন কপি লেখা থেকে শুরু করে ভিজ্যুয়াল তৈরি করছে, তখন একজন তরুণ ক্রিয়েটিভ কীভাবে নিজের চিন্তাশক্তি ও স্ট্র্যাটেজি দিয়ে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলতে পারে, তা নিয়ে তিনি উৎসাহমূলক বক্তব্য রাখেন।
উন্নয়ন খাত (Development Sector)
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যানালিস্ট সুসান সুহা এবং হেড অব কমিউনিকেশনস মো. আব্দুল কাইয়ুম উন্নয়ন খাতে ক্যারিয়ারের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। সুসান সুহা জানান, শুধু অ্যাসাইনমেন্ট লেখার বাইরেও শিক্ষার্থীরা কীভাবে এআই ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, আব্দুল কাইয়ুম ডেভেলপার ও প্রকৌশলীদের জন্য যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কমিউনিকেশন স্কিল কোনোভাবেই ঐচ্ছিক হতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অতিথিদের উপস্থিতি, অনুপ্রেরণামূলক প্যানেল আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হয় এবারের ‘জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি এআই অ্যান্ড আইটি ফেস্ট ২০২৬’।